শিরোনাম

সরকারের আর্থসামাজিক ‘অগ্রগতির’ খতিয়ান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা:

১৬ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের ‘দুঃশাসন’ এবং এই সরকারের টানা ১৪ বছরের ক্ষমতায় থাকার সময় আর্থসামাজিক ‘অগ্রগতির’ খতিয়ান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের চার বছর পূর্তিতে সরকারপ্রধান হিসেবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দুই সরকার আমলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সৃষ্ট ‘অরাজক’ পরিস্থিতির মুখে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিয়েও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শুধু ব্যর্থই হয়নি, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে কালিমালিপ্তও করে।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান দেশের ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ নির্যাতিত মা বোনের প্রতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা একটানা ১৪ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। ১৬ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ অর্থবছরে আমরা কোথায় ছিলাম আর এখন আমাদের অবস্থান কোথায়, কয়েকটি আর্থসামাজিক সূচকের মাধ্যমে আপনাদের সামনে তা তুলে ধরতে চাই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জোট সরকারের শেষ অর্থবছর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে। ২০০৫-০৬ সময়ে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। করোনা মহামারির আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে। ২০০৫-০৬ সালে জিডিপির আকার ছিল মাত্র ৬০ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপির আকার ৪৬০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।’  জাতীয় বাজেটের আকার নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।’

‘বিএনপি-জামায়াতের শেষ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি খাতে আয় হয়েছিল ১০ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২০২২ অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ২২ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য রিজার্ভ রয়েছে।’

শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৫-০৬ সময়ে শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ৪৫ জন। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২২ জনে।’ গড় আয়ু সাড়ে ৬৪ বছর থেকে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ছিল ৭১ শতাংশ, তা ৯৯ শতাংশ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই খাতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৭৩ কোটি টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা।’

‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয় ৫৯২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে চাল, গম, ভুট্টা ৪ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন।’

বিএনপি-জামায়াত জোটের শেষ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৮২৬ মেগাওয়াট। সে সময় বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ। ২০২২ সালে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়েছি। আওয়ামী লীগ টানা ১৪ বছরে সব ঘর আলোকিত করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Share now

আরও পড়ুন