ফেনীর দাগনভূঞায় গমের আবাদ বেড়েছে

নোয়াখালীমেইল ডেস্ক:

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,  চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে গম চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলা গম আবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। গম চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, গমের বাজারমূল্য গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে অনেকে গম চাষ করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার গমের আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল গম উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, মূলত শীত মৌসুমে উপজেলার বেশীর ভাগ এলাকায় সবজি, ধান, সরিষা চাষ করলেও এরইমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা গম চাষে খরচ কম ফলন বেশি হওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে গম চাষ, উৎপাদিত ফসল সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক নতুন জাতের গমের প্রদর্শনী, সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান ও বালাই দমনে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ বালাইনাশক এবং হাইব্রিড জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এছাড়াও উপসহকারী কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে মাঠ পরিদর্শন করছেন।
উপজেলার সিন্দুররপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে ৫০ শতাংশ জমিতে গম আবাদ করেছেন কৃষক মজিবুল হক। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তৃত মাঠে দু-চোখ জুড়ানো এক সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠ জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ। কৃষক মজিবুল হক বলেন, আমি ৫০ শতাংশ জমিতে বারী-৩২ জাতের গম চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনা পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠে এসে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন। গম চাষে কম খরচে উৎপাদন ভালো হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, ধান চাষের চেয়ে গম চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলনসহ বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়া যাওয়ায় গম চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। এ বছর তারা দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনায় সার ও বীজ পেয়েছেন। নিয়মিত জমির পরিচর্যার পাশাপাশি ছত্রাকসহ নানা ধরনের রোগবালাই থেকে বাঁচতে বালাইনাশক স্প্রে করছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন অন্যান্য বছরের চেয়ে ভালো হবে।
একই এলাকার কৃষক নিজাম উদ্দিন ২০ শতক, আমির হোসেন ৩০, আইয়ুব খাঁন রানা ১৮, মোহাম্মদ ইলিয়াস ৩৩ শতক ও একই ইউনিয়নের মাছিমপুরের কৃষক সন্তোষ মজুমদার ২০ শতক, কোরবানপুরের কৃষক আবদুল্লাহ আল মামুন ১৫ শতক এবং অলাতলীর কৃষক সাদ্দাম হোসেন ২৫ শতক জমিতে গমের আবাদ করেছেন।
ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, ইউনিয়নে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত মাঠে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি এ বছর গমের ভালো ফলন পাবেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এ ইউনিয়নের ৫জন কৃষককে প্রণোদনার বীজ ও সার এবং ভুট্টা গবেষণার মাধ্যমে ৩জন কৃষককে প্রদর্শনী আকারে বীজ সার ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

–১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ (বাসস)