ফেনীর তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধার চিঠির উত্তর ২ বছরেও দিতে পারেনি প্রশাসন

  • ফেনী (সোনাগাজী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে পাঠানো একটি চিঠির উত্তর দুই বছরেও দিতে পারেনি সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসন ও যাচাই-বাচাই কমিটি। এ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার গুলোর মাঝে বিজয়ের মাসে হতাশা আর ক্ষেভের অন্ত নেই।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিধি বহিভূতভাবে ফেনীর সোনাগাজীর সাত বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা স্থগিত রাখার বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হাইকোর্ট বিভাগে ৮৯৬/২০২০ রিট পিটিশন করেন। উক্ত রিট পিটিশনের আদেশের আলোকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ দু`দফায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সিদ্ধান্তের আলোকে গত ২২ ডিসেম্বর ২০২০ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে সহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে আবারো তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, মরহুম মো: খুরশিদ আলম এবং মরহুম মীর আহাম্মদের বিষয়ে উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই কমিটি কতৃর্ক যাচাই-বাচাইক্রমে মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য অনুরোধ করে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে চিঠি প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর অতিবাহিত হলেও আজো উক্ত চিঠির উত্তর না দিতে পারায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গুলো রাষ্ট্রিয় সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীব যাপন করছেন।

জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা যাচাই-বাচাই শেষে দীর্ঘ এক যুগ সম্মানী ভাতা পাওয়ার পর ২০১৯ সালে তৎকালীন সমাজ সেবা কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশে আমাদের সম্মানী ভাতা স্থাগিত করে আমাদের হয়রানির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা রিট পিটিশন করলে শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও আজো উক্ত চিঠির উত্তর না দিতে পারায় আমরা হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি। আমরা নিজের রক্ত দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করে আজ স্বাধীন রাষ্ট্রে বড় বড় চেয়ারে বসে থাকা লোকদের মাধ্যেমে হয়রানির শিকার হচ্ছি।

সোনাগাজী বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাসির উদ্দিন জানান, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এ তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমি শিগগিরই এর প্রতিকার দাবি করছি।

৭ নম্বর সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন কমান্ডার কাজী আবুল কাশেম বলেন, বিজয়ের মাসেও এ তিন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি সমাধান না হওয়া দুঃখজনক। আমরা শিগগিরই এর সামাধানের জন্য অনুরোধ করছি।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামাধান করার চেষ্টা করবো। দীর্ঘ দিন কমিটি জটিলতায় বিষয়গুলোর সমাধান করা যায়নি।

উল্লেখ্য, সোনাগাজী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫৯২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিতর্ক আসায় এর আগে দু`বার এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মে ২০২২ ফেনী জেলা প্রশাসকের এক আদেশের আলোকে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১০ থেকে ২২ আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের দিনক্ষণ ঠিক করে দেন। উক্ত কমিটিতে যথোপযুক্ত নয় বলে দাবি করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লেফট্যানেন্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে ডিও পত্র দিলে ৮ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমদিত কমিটি অনিবার্যকারণ দেখিয়ে এ কার্যক্রম স্থগিত করে। এ নিয়ে তৃতীয়বার এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।