"/>

স্বাস্থ্য সংবাদ

স্বাস্থ্য সচিবের সমালোচনা, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসককে শোকজ

নিউজ ডেস্ক

2020-04-19 00:29:53


স্বাস্থ্য সচিবের সমালোচনা করায় নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন (অ্যানেসথেসিওলজিস্ট) ডা. আবু তাহেরের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছেন হাসপাতালের  তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর। ফেসবুকে এক পোস্টে ডা. আবু তাহেরের মন্তব্য ’সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি, ভুল বোঝাবুঝি বা বিদ্বেষের সৃষ্টি করতে পারবে বা প্ররোচিত করতে পারে’ বলে কৈফিয়ত তলবের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার এর ফেসবুক পোস্টে ডা. আবু তাহের বলেছেন, ‘সত্য কথা বলার শাস্তি’ হিসেবে তাকে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, "আমি নোয়াখালী ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে কর্মরত একজন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট। রোগীর সবচেয়ে কাছ থেকে আমি চিকিৎসা দেই। গত ১ মাসে প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমিসহ আমার ডিপার্টমেন্ট এর কেউ ১টিও n95/kn95/ffp2 মাস্ক পাননি। তাহলে স্বাস্থ্য সচিব মিথ্যাচার কেন করলেন? উনি n95 ইকোয়িভেলেন্ট মাস্ক দিচ্ছেন? তাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা বলতেছে? এই মিথ্যাচার এর শাস্তি কি হবে? গত ১ মাসে আমার ডিপার্টমেন্টে ৮ জনের জন্য ২টি পিপিই দেওয়া হয়েছে। এই হলো পর্যাপ্ত পিপিই মজুদ।"

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত কৈফিয়ত পত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ২৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে স্টাট্যাস দেওয়ায় এর মাধ্যমে মাস্ক ও পিপিই প্রাপ্তি বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়কে শিষ্ঠাচার বর্জিত শব্দ প্রয়োগে অভিযুক্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন ডা. আবু তাহের। হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে ও বিভাগে চাহিদা অনুযায়ী পিপিইসহ যাবতীয় সুরক্ষা সামগ্রী মজুত রয়েছে বলে দাবি করেন তত্ত্ববধায়ক।

চিঠিতে তিনি বলেন, ‘পিপিইসহ যাবতীয় ব্যক্তিগতসুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা এবং হাসপাতাল স্টোরে উল্লেখিত সামগ্রী মজুত বিষয়ে সুষ্পষ্ট ধারণা না থাকা সত্বেও আপনি এ বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মধ্যে অসন্তুষ্টি, ভুল বোঝাবুঝি বা বিদ্বেষের সৃষ্টি করতে পারে বা প্ররোচিত করতে পারে। এটা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর পরিপন্থী। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক অসদাচরণ হিসাবে গণ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে না তা জানাতে চিঠি পাঠানোর তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর কারণ দর্শানোর জন্য ডা. আবু তাহেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

অতীতে ডা. আবু তাহেরের সঙ্গে একজনের বাদানুবাদের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘সাম্প্রতিককালে অপারেশন থিয়েটারে জনৈক সহকারী অধ্যাপকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের (কোনও কর্মকর্তা বা ভদ্রলোকের পক্ষে অনুচিত শিষ্টাচারবিহীন আচরণ) কারণে আপনি প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার প্রেক্ষিতে অভিযোগের দায় থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি।’

স্বাস্থ্য সচিবের সমালোচনা করায় চিকিৎসককে শোকজ