সম্পাদকীয় সংবাদ

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

মোহাম্মদ ঈমাম হোসেইন, সম্পাদক:

2020-04-27 06:18:59


মোহাম্মদ ঈমাম হোসেইন:

বিশিষ্ট সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নোয়াখালীর কৃতিসন্তান মাহফুজ উল্লাহ’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। এক বছর আগে ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল আজকের এই দিনে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান দেশবরেণ্য এ সাংবাদিক ।

দেশে চলমান করোনা মহামারী COVID-19 এর কারণে বরেণ্য এই সাংবাদিকের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হচ্ছেনা বলে মরহুমের কন্যা নুসরাত হুমাইরা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

শক্তিমান লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, তারকা টকশো ব্যক্তিত্ব্, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষক মাহফুজ উল্লাহ'র মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে জন্ম নেয়া মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অগ্র সেনানী ছিলেন। ছাত্র অবস্থাতেই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ দেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে, কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন সিনিয়র এই সাংবাদিক।

সেন্টার ফর সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। রাজনীতি উন্নয়ন ও পরিবেশ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের একজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেন। তার বাবা শিক্ষাবিদ মরহুম হাবিবুল্লাহ ও মাতা মরহুমা ফয়জুননিসা বেগম।

তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মোজাফফর আহমদের নাতি সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। তিনি নিজেও একসময় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন।
আল্লাহ এই গুণী মানুষটিকে জান্নতবাসী করুন। --আমিন--।