নোয়াখালী সংবাদ

বেগমগঞ্জে নোয়াখালীর করোনা আক্রান্তের অর্ধেক

নিউজ ডেস্ক

2020-05-17 05:49:42


সুমন ভৌমিক:

নোয়াখালীতে বাড়ছে নভেল করোনাভাইরাসেরসংক্রমণ। এরই মধ্যে নয়টি উপজেলাতেই ছড়িয়েপড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। গতকাল পর্যন্ত ২৪ঘণ্টায় নতুন ২২ জনসহ জেলায় মোট করোনাআক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১১৯ জনে। এরমধ্যে ৬১ জনই বেগমগঞ্জ উপজেলার। এউপজেলায় করোনা বিস্তারের হটস্পট হয়েউঠেছে চৌমুহনী পৌর এলাকা। জেলা সিভিলসার্জনের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নোয়াখালীতে প্রতিদিনই নতুনকরোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্তজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল ৫৮ জন। পরের দুদিনে রোগী আরো ৩৯ জন বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ জনে। এরপর ২৪ঘণ্টায় অর্থাৎ গত শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত আরো ২২ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায়করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৯ জনে। আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকই বেগমগঞ্জ উপজেলার। এ উপজেলায় গতকালপর্যন্ত ৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলায় ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে চৌমুহনী পৌর এলাকা।গতকাল পর্যন্ত চৌমুহনী পৌর এলাকায় ৩৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা জেলায় মোট আক্রান্তের এক-চতুর্থাংশ।

বাকি উপজেলাগুলোর মধ্যে সদরে ১৬, কবিরহাটে ১২, চাটখিলে ১১, সোনাইমুড়ীতে ১১, হাতিয়ায় পাঁচ, সেনবাগেএক, কোম্পানীগঞ্জ এক ও সুবর্ণচর উপজেলায় একজনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।এর মধ্যে তিনজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে মৃত্যুর পর। তারা সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনীপৌর এলাকার বাসিন্দা।

সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহেলা সুলতানা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজননার্সের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ওআন্তঃবিভাগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে যেসব রোগী ভর্তি আছেন, তারা সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সেবা পাবেন।

জেলা শহরের শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের কভিড-১৯ হাসপাতালের ইনচার্জ নিরুপম দাশ বলেন, গত ৩০ এপ্রিল যাত্রাশুরুর পর এ পর্যন্ত আটজন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১১ জন চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে দুজনরোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তবে তারা এখনো ঢাকা যাননি।

জেলা সিভিল সার্জন মো. মোমিনুর রহমান জানান, নোয়াখালীতে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণদ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নয়টি উপজেলাতেই কমবেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বেগমগঞ্জএবং ওই উপজেলার চৌমুহনী বাজার। জেলায় মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি সেখানে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেচৌমুহনী পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছিল। যদিও তা করা হয়নি, তবে দোকানপাট ও

শপিংমল বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া চৌমুহনীতে যেন কোনো হকার না বসে সে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর বাইরেফার্মেসি ও মুদি দোকান খোলা থাকলেও যেন একসঙ্গে পুরো বাজার খোলা না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করারপরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত শুক্রবার থেকে পুরো জেলায় আবারো বিপণিবিতান, শপিংমলসহ সব ধরনেরদোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগে জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটিরসভাপতি তন্ময় দাস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বিপণিবিতান, শপিংমলসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোশর্তসাপেক্ষে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনে জেলা শহর এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোপর্যবেক্ষণ করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে পড়ে। বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোয় ক্রেতার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। এতে জেলায় নভেল করোনাভাইরাস আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূতপরিস্থিতিতে জেলার সংসদ সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের অনুরোধে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেআলোচনা করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।