সম্পাদকীয় সংবাদ

'৭২-এ নিখোঁজ জহির রায়হানের অপেক্ষায় আজও তার পরিবার!

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাঃ

2020-01-30 11:39:05


সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশ। সবাই মিলে সেই দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টায় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ১৯৭২ সালের ২৮ জানুয়ারির সকাল। এক রহস্যময় ব্যক্তি ফোন করে জানান যে, ১৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়া বড় ভাই প্রখ্যাত লেখক শহীদুল্লাহ কায়সারকে মিরপুর ১২ নাম্বারে একটি হাউজিং সেক্টরে আটকে রাখা হয়েছে। একথা শুনেই তিনি ভাইয়ের খোঁজে মিরপুর যান এবং আর ফিরে আসেননি।

বলছি ফেনীর কৃতিসন্তান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক জহির রায়হানের কথা। বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের কালজয়ী এক নাম। মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শিল্পসৃষ্টিতে। সাহিত্য কিংবা সিনেমা; যেখানে হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ হন। আর ফিরে আসেননি। এদিকে বড় ভাইকে নিয়ে তিনি ফিরে আসবেন এই অপেক্ষায় থেকে থেকে জীবন কাটিয়ে চলে গেলেন কায়সার-জহিরের মা।

আজ জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস উপলক্ষে আবেগঘন এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানালেন তার ভাইয়ের মেয়ে সাবরিনা নিপু। তিনি চাচার তিনটি ছবি কোলাজ করে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে চাচার প্রতি অভিমানী সুরে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কথা ছিলো কোনো এক ফাল্গুনে ফিরবে তুমি! কতো ফাল্গুন এলো গেলো, কই এলেনাতো? আসছে ফাল্গুনে কি পাবো তোমার দেখা? নাকি আমৃত্যু অপেক্ষায় থেকেই কাটাবো প্রহর?’

নিপু আরও লেখেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার দুই চাচার হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুনতে শুনতে আমাদের বড় হওয়া! আমার দাদু বিশ্বাস করতেন তাঁর ছেলেরা ফিরে আসবেই! প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষ করেই তজবীহ হাতে নিয়ে দোয়া পড়তে পড়তে দোতলার বারান্দায় হাঁটতেন আর সদর দরজার এতটুকু শব্দ হলেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়তেন!
কোনো কোনোদিন আমিও তাঁর সাথে হাঁটতাম!

কখনও দুজনে মিলে ছাদে চলে যেতাম, তখন বলতেন এই বাড়িতে, ছাদে একসময় কিভাবে শুটিং চলতো, গণ্যমান্য সব রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিকদের আনাগোনায় কীভাবে মুখরিত হতো বাড়ির প্রতিটি কোণ! সেই ভোর থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ছেলে ফিরে আসার অপেক্ষায় কেটে যেতো তার দিন!

বড় ছেলে কায়সারকে নিয়ে মেঝ ছেলে জাফর একদিন ঠিক ফিরে আসবে এবং তাকে আম্মা বলে জড়িয়ে ধরবে এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন! আমরাও সেই বিশ্বাস বুকে লালন করে আজো অপেক্ষায় আছি তোমার... কবে আসবে তুমি?’